রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতের হকার ও বিপণি বিতানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর শনিবার ঢাকা ট্রেড সেন্টার খুলে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গুলিস্তানে ফুটপাতের হকার ও বিপণি বিতানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতার পর তা খুলে দেয়া হয়।
গতকাল রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতের হকার ও বিপণি বিতানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ২য় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বৃষ্টির মতো ঢিল আর লাঠি নিয়ে মারামারি ও পুলিশের টিয়ার শেলে আহত হন বেশ কয়েকজন। আহতদের মধ্যে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসিও ছিলেন।
ওই ঘটনায় শতাধিক হকার ও ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার রাজধানীর প্রতিটি ফুটপাত পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলমুক্ত করার ঘোষণা দেন।
বুধবার গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে যৌথ অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই উচ্ছেদ নিয়ে ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ ঘটনার জেরেই শুক্রবার দুপুরে ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়। দুই ঘন্টা ধরে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ব্যবসায়ীরা হকারদের দোকান বসানোর চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে হকাররাও ওই বিপণি বিতানে হামলা চালায়।
ওই সময় পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলার সময় গুলিস্তান, নবাবপুর, কাপ্তানবাজার ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
হকাররা অভিযোগ করেন, দোকানের জন্য মার্কেট ব্যবসায়ীদের টাকা না দেয়ায় এঘটনার সূত্রপাত।
দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে শতাধিক ব্যবসায়ীকে আটক করে পল্টন থানায় নিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা।
তবে হকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা ট্রেড সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ।