বাজেটে করমূক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি তবে কমানো হয়েছে কর রেয়াত সুবিধা। এতে মানুষকে এখন আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে। ফলে চাপ বাড়বে পারিবারিক বাজেটের উপর। আবার বাড়ানো হয়েছে মুল্য সংযোজন কর-মূসকের আওতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বস্তির জায়গাগুলো সীমিত করা হয়েছে। তাদের মতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা।
সীমিত আয় তবে ব্যয়ের চাহিদা অফুরান— প্রতিবছর মুল্যস্ফীতি সেই ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এবারের বাজেটে করমূক্ত আয়সীমা নির্ধারণে সেই মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় আসেনি।
এর অর্থ আগামী বছর ৬% আয় কম করেও, নূনতম কর দিতেই হবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের দুঃসময়ের ভরসা সঞ্চয়পত্র থেকে আয়ের উপরও কর বসানো হয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের মুনাফার উপরও ৫% উৎসে কর বসানো হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত করদাতারা তার আয়ের ৩০% বিনিয়োগ করে ১৫% কর রেয়াত পেতেন। এ সুবধাও বাজেটে কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন ২০% বিনিয়োগে ১০% কর রেয়াত পাবেন।
এর ফলে যাদের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকা বা তার উপরে, তাদের জন্য করের বোঝা বাড়ছে প্রায় ৩১%। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন চাকরিজীবীরা।
এর পাশাপাশি বিদ্যুত বিলের উপর ব্যয় বাড়ছে আগের চেয় সাড়ে ৯% বেশি। এর ফলে জিনিসপত্রের দামও কিছুটা বেড়ে যাবে। মোবাইল ব্যবহারের উপরও ২% সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।
আবার কোন পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে বেশি মূসক দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, চাপে পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
প্রস্তাবিত বাজেটে, ধনীদের সম্পদের উপর সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে তাদেরকেও আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে।