একদিন বাদেই যে বাজেট পাস হতে যাচ্ছে তাতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়নি— মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে, আগের চেয়ে কম আয় করেও এখন কর দিতে হবে। কমানো হয়েছে করদাতাদের বিনিয়োগ সুবিধাও। এতে করে একই পরিমাণ আয়ে আগের চেয়ে বেশি কর গুনতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটের এসব নির্দেশনা নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
সংসারের নানামুখী চাপে ছোট করতাদারা প্রতিবছর করমূক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির আশায় থাকেন। কিন্তু আসছে বাজেটে এ বিষয়ে তাদের জন্য কোন সুখবর নেই। করমূক্ত আয়সীমা বহাল থাকছে আগের মতই আড়াই লাখ টাকা। আপস.
নূন্যতম আয়করের পরিমানও ঢাকা ও চট্টগামের জন্য ৫ হাজার, অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ হাজার এবং এর বাইরে ৩ হাজার টাকা অপরিবর্তিত আছে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কেউ তার আয়ের ৩০% বিনিয়োগ করলে ১৫% কর রেয়াত পেত। তবে আসছে বাজেটে বিনিয়োগসীমা কমিয়ে ২০% এবং কর রেয়াত কমিয়ে ১০% করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে করে যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, তাদের উপরই আরো বেশি করে বোঝা চাপানো হল।
সে হিসেবে কারও আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয়, তাহলে তার করযোগ্য আয় দাড়াবে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। প্রথম ৪ লাখের জন্য ১০% হারে ৪০ হাজার টাকা, পরের সাড়ে ৩ লাখ টাকার উপর ১৫% হারে সাড়ে ৫২ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট করের পরিমান দাড়িবে সাড়ে ৯২ হাজার টাকা।
আর বিনিয়োগের জন্য ওই করদাতা রেয়াত পাবেন ১৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে তাকে কর দিতে হবে সাড়ে ৭৭ হাজার টাকা।
তবে বর্তমান নিয়মে একই আয়ের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের পরিমান ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা। সে হিসেবে সব মিলিয়ে তাকে এখন কর দিতে হয় ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
হিসাব বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা বার্ষিক আয়ের একজন করদাতাকে বেশি দিতে হবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। যা আগের চেয়ে প্রায় ৩২% বেশি।
চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা থেকে এসব কর কেটে রাখার জন্য নিয়োগকারীর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাজেটে।
করযোগ্য হোক বা না হোক, উৎপাদন শ্রমিক ছাড়া করযোগ্য হোক বা না হোক সকল চাকরিজীবীর জন্যই আয়কর বিবরণী জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।