কর ও শুল্ক হারের কিছু পরিবর্তন এনে সংসদে পাস হলো ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট।
এ বাজেটের আকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৫% বড়। ৭.২ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহন ও যোগযোগ খাতে।
বাজেট অর্থায়নে রাজস্ব এবং অনুদান মিলে মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কর থেকে আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। যা আগের চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
এর ফলে বাজেট অর্থায়নে মানুষকে আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে বাড়বে জীবন যাত্রার ব্যয়।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে রাষ্ট্রপতিকে বরাদ্দ দিয়ে জাতীয় সংসদে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে।
সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ নিয়ে কয়েকজন সাংসদ কিছু ছাটাই প্রস্তাব দিলে কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়।
গত ২ জুন অর্থমন্ত্রী সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব করেন তা থেকে কর ও শুল্ক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উৎসে কর প্রস্তাবিত ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় নিয়োজিত স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার উপর ভ্যাট অব্যাহতি।
ই-কর্মাসে লেনদেনের উপর থেকে ভ্যাট অব্যহতি।
জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার।
মেডিকেল ও সার্জিকেল পণ্য আমদানিতে শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাচামাল স্ট্রিপিং কেমিক্যাল আমদানিতে প্রস্তাবিত শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নির্ধারণ।
কর রেয়াতি বিনিয়োগ সুবিধা প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং রেয়াতের হার আয় ভেদে ১০, ১২ ও ১৫ শতাংশ হবে।
আর্থিক হিসেবের ক্ষেত্রে বর্তমানে জুলাই-জুন যে সার্বজনীন হিসাব বছর নির্ধারণ করা হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।
৪৫ টাকা ও তার বেশি এবং ৭০ টাকা ও তার বেশি মূল্য স্তরের তামাকজাত পণ্যের সম্পূরক শুল্ক হার ২ শতাংশ বাড়ছে।
মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ায় আগের চেয়ে কম আয় করেও মানুষকে কর দিতে হবে।
রেয়াতি বিনিয়োগ সুবিধা ও কর রেয়াতের হার কমানোয় আগের চেয়ে বেশি আয়কর দিতে হবে।
বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সেবা খাতে ভ্যাট আরোপ এবং প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ দ্বিগুণ করায় জীবনযাত্রার ব্যয়ও আগের চেয়ে বাড়বে।
একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ১ জুলাই থেকেই আগামী ১ বছরের জন্য এ বাজেট কার্যকর হবে।