ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া রোববার থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ বিষয়ে গণশুনানি।
রোববার প্রথম দিনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির সঞ্চালন মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানি হচ্ছে।
গ্যাসের দাম পুনর্নিধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে গণশুনানি শুরু করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। ভোক্তা পর্যায়ের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী মহলসহ বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ শুনানি চলবে আট দিনব্যাপী।
প্রথম দিনে গ্যাসের দাম গ্রাহকভেদে ১০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় কোম্পানিগুলো। যদিও তার বিরোধিতা করেছে এফবিসিসিআই। তবে টিসিবির পক্ষ থেকে এতে বলা হয়েছে, নতুন করে সঞ্চালন লাইন বসানোর কাজ শুরু হওয়ায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।
আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও ৬টি গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে এ শুনানি চলবে।
শুনানি শেষে ৯০ দিনের মধ্যে দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানা গেছে, গ্রাহকভেদে ১০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো।
বর্তমানে এক চুলার মাসিক বিল ৬০০ টাকা এবং দুই চুলা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো।
রোববার প্রথম দিনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির সঞ্চালন মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানি হচ্ছে। সরকারি এ কোম্পানিটি প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন বাবদ বর্তমান কমিশন দশমিক ১৫৬৫ থেকে বৃদ্ধি করে দশমিক ৪২১৩ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
গত বছরে প্রফিট বোনাস বাবদ সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বোনাস প্রদানের খবর পাওয়া গেছে। তারপরও এ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না ভোক্তাদের সংগঠন ক্যাব।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং শিল্পে বয়লারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা, গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ৮ আগস্ট তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ১০ আগস্ট পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১১ আগস্ট বাখরাবাদ গাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৪ আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৬ আগস্ট জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ১৭ আগস্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।
আগামী ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস ও বাপেক্সের সরবরাহ করা গ্যাসের পাইকারি মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানি হবে। এতে অংশ নিয়ে মতামত দেয়ার সুযোগ রয়েছে ভোক্তাদের। তবে সকালে উপস্থিত হয়ে আলোচনায় নিজের নাম লিপিবদ্ধ করতে হবে।
এর আগে গত বছর আগস্টে গ্রাহকপর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয় যা গত সেপ্টেম্বর কার্যকর হয়।