কোরবানির পশুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা। সারাদেশে খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি মহিউদ্দিন মাহমুদ মাহিন এ দাম ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ীদের বেধে দেয়া দাম অনুযায়ী পোস্তার আড়তদার আর ট্যানারি মালিকরা ঢাকায় কোরবানি দেয়া গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে দেবেন ৫০ টাকা, আর ঢাকার বাইরের জন্য ৪০ টাকা। খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুটে ২০ টাকা আর বকরির জন্য ১৫ টাকা।
অথচ গতবছর এ চামড়ার মূল্য ছিল গরু ৫৫ থেকে ৬০ টাকা আর বকরি ২০ থেকে ২৫ টাকা। এছাড়া প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত মহিষের চামড়ার দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা; আর সারাদেশে খাসির লবণযুক্ত চামড়া ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা।
এবারের ঈদে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ গরুসহ মোট ১ কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হবে বলে ধারণা করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। এসব চামড়া যাতে ভারতে পাচার না হয় তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।
গত ১৫ বছরের মধ্যে চামড়ার দাম এবার সবচেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়েছে। দামের এ নিম্নগতির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, পাচার রোধ করা গেলে এ ঈদে ১ কোটিরও বেশি পশুর চামড়া সংগৃহীত হবে।
দেশে বছরে যে পরিমাণ চামড়া সংগৃহীত হয়, তার অর্ধেকই আসে কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। কোরবানির পশু চামড়ার গুণগত মান ভালো হওয়ায়, দেশে-বিদেশে এর চাহিদাও থাকে বেশি। তবে দাম নিয়ে চলে অরাজকতা। এ অরাজকতা কমাতে গত ২ বারের মতো, এবারও পশু চামড়ার দাম আগে থেকে নির্ধারণ করার জন্য গত সোমবার ৪৮ ঘণ্টা সময় বেধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রীর বেধে দেয়া সেই ৪৮ ঘণ্টা পার হতে সময় লেগেছে ৫ দিন। অবশেষে চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবারের নির্ধারিত মূল্য গতবারের চেয়ে ১০ শতাংশ কম এবং স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন।