অর্থ ফেরত পাওয়ার স্বার্থে এখনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শিগগিরই দেড় কোটি ডলার ফেরত পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এটা আমার ঘোষণা মত কালকে প্রকাশ করা হবে না— বেশ দেরি হবে… বেশ দেরি হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ফরাসউদ্দিন গত ৩০ মে ওই প্রতিবেদন দেয়ার পর অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, রিপোর্টে যা আছে, তা অবশ্যদই প্রকাশ করা হবে— কিন্তু এ পর্যন্ত কয়েক দফা সময় দিয়েও কথা রাখতে পারেননি তিনি। এবার তিনি যুক্তি হিসেবে ফিলিপিন্সে টাকা উদ্ধারে মামলা চলার কথা তুলে ধরেছেন।
ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ফিলিপিন্স ও আমাদের মধ্যেব আলোচনা চলছে— আমরা সেখানে মামলা মোকদ্দমা করেছি ইত্যাদদি নানান কিছু আছে। এই রিপোর্ট বেরুলে সেগুলো আপসেট হয়ে যাবে। সেজন্য্ রিপোর্ট এখন বের হচ্ছে না। পরে বের করব। তারিখ বলতে পারছি না। ইট উইল বি পাবলিশড—মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে, চুরি যাওয়া বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেয়ার আদেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের আদালত। এর মাধ্যমে বাকি অর্থ উদ্ধারের পথ আরও সুগম হলো বলেই মনে করছেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে গত ১৫ মার্চ সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দীনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী গত ৩০ মে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেয় কমিটি। এরপর থেকে ওই প্রতিবেদন প্রকাশে কয়েক দফা সময় দিলেও সবশেষ ২২ সেপ্টেম্বর এটি প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
কিন্তু, এর একদিন আগে বুধবার সচিবালয়ে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কৌশলগত কারণে এখনই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এদিকে, রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের যে বড় অংশটি ফিলিপাইনে চলে গেছে এতদিন আইনগতভাবে এ অর্থের মালিকনা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় তা ফেরত পাচ্ছিল না বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার দেশটির আদালতের রায়ে বিষয়টির মীমাংসা হয়ে গেছে। সে অনুযায়ী ফিলিপাইনে উদ্ধার হওয়া চুরির দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে বাকি অর্থ ফেরত পাওয়ার পথও সহজ হয়ে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাচার হয়ে যাওয়া ২ কোটি ডলার তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া গেছে। এবার ফেরৎ পাওয়া যাবে আরও দেড় কোটি ডলার।