বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার পর্যায়ে উন্নিত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সফর। স্বাক্ষরিত হলো ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক। এগুলোর মধ্যে বেসরকারি খাতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা ১১টি চুক্তি করেছেন।
একই সময় দুই শীর্ষ নেতা ৬টি মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। এসব চুক্তি ও প্রকল্পে চীন বাংলাদেশে ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগী থেকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো। শুক্রবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শি চিন পিং দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে একমত হন।
বৈঠকের পর দুই দেশের সরকারের মধ্যে ১৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বেসরকারি খাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চীনা ব্যবসায়ীরা ১১ টি চুক্তি করেন।
এগুলোর মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা ও হ্রাসকরণ, সেতু নির্মাণ, বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা সহযোগিতা, দুদেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই, সামুদ্রিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা, ইনফরমেশন সিল্ক রোড, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহযোগিতা, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশে চীনের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, ঢকা-সিলেট হাইওয়ে প্রশস্থকরণ প্রকল্প, ব্রডকাস্টিং লাইসেন্স প্রটোকলসহ চারটি অর্থনৈতিক চুক্তি।
দ্বিস্তরের পাইপলাইন সম্মৃদ্ধ পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, ডিপিডিসি ও ৫টি টেলিভিশন স্টেশনের মধ্যে পাওয়ার সিস্টেম বর্ধিতকরণ চুক্তিও হয়েছে।
সই হওয়া ২টি রূপরেখা চুক্তি হল কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে একাধিক লেনের টানেল নির্মাণ ও দাশেরকান্দিতে সাগরকেন্দ্রিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এ দুটি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্পাদিত হয়েছে আরও চারটি ঋণচুক্তি।
শি চিন পিং ও শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন আরো ৬টি প্রকল্প।
এগুলো হল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট স্থাপন, কর্ণফুলী নদীর নিচে একাধিক লেনের টানেল নির্মাণ, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, চার স্তরের জাতীয় তথ্য ভান্ডার ও শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণ প্রকল্প।
এত সব প্রকল্প, চুক্তি ও সমঝোতা বাস্তবায়নে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে ১ হাজার তিনশো ষাট কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।
প্রকল্পগুলো ২০২০ সালে মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।