দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং অপুষ্টিতে ভুগছে আর এ কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতি ১০০ কোটি ডলার।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচির (ডব্লিওএফপি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। বুধবার দুপুরে রাজধানীতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
২০৪১ উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পুরণ করতে, হলে এ খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিতে অধিকতর নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। অপুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
শহরের বস্তিগুলোতে যেসব শিশুর বসবাস, তাদের অর্ধেকেরই শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিকের তুলনায় কম। আর সারাদেশে ৫ বছর বয়সী এ ধরনের শিশুর সংখ্যা ৩ ভাগের এক ভাগেরও বেশি।
ডব্লিউএফপি এর প্রতিবদেন বলছে, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না। যারা চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না, দেশে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা শতকরা ২৫ ভাগ। এর মধ্যে ১১ ভাগ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে— এর বড় অংশই নারী।
প্রতিবদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অপুষ্টির পেছনে বাল্য বিবাহকেই সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে আগামী বাজেটেই নির্দেশনা থাকবে।
আর খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষি উৎপাদনের বহুমুখীকরণে, সরকার সাফল্যের দিকেই এগুচ্ছে বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।
তবে প্রতিবেদনে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং অপুষ্টির জন্য বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
এগুলো হচ্ছে: উন্নয়নের সুফল সুষমভাবে দরিদ্র্যদের কাছে না পৌঁছানো, ধনীদের তুলনায় দরিদ্রদের আর্থিক অবস্থা থেকে উত্তরণের শ্লথ গতি, কৃষির উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং কৃষি উৎপাদন গুটি কয়েক ফসলের ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে।
এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত আর অপুষ্টি প্রতিরোধে গত দুই দশকে বাংলাদেশের সাফল্য বেশ প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনেও।