গতবছর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছিল—ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ৫৮ কোটি ডলার।
বৃহহস্পতিবার দুপুরে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স-অ্যামচ্যাম আয়োজিত এক মধ্যাহ্ন ভোজে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
অবকাঠামো উন্নয়ন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, শ্রমিক অধিকার এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এ বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
জবাবে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স-অ্যামচ্যামের মাসিক মধ্যাহ্নভোজ সভায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি নুরুল ইসলাম।
বিশেষ করে সরাসরি মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাব দেন অ্যামচ্যাম সভাপতি।
এগুলো হচ্ছে বিনিয়োগের সুরক্ষা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের চেয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের অধিক সুবিধা প্রদান, এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস।
অনুষ্ঠানে বিগত ৫ বছরে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের তথ্য তুলে ধরেন আ্যামচ্যাম সভাপতি।
তাতে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ২৭ কোটি ডলার। আর ২০১৫ সালে বিনিয়োগ করেছেন আগের চার বছরের মোট বিনিয়োগের দুই গুণেরও বেশি। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারী বলে জানান তিনি।
এসব সমস্যা নিরসনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান।
এ জন্যই বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারিকরণ কমিশন বিলুপ্ত করে সরকার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা গঠন করেছে বলেও জানান তিনি।
এর পাশাপাশি সরকার বিদেশি বিনিয়োগের শতভাগ সুরক্ষা দিবে বলেও জানান বিডা চেয়ারম্যান।