রিজার্ভ চুরির দেড় কোটি ডলার আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। আরো প্রায় ৫ কোটি ডলার আছে জব্দকৃত অবস্থায়।
রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান।
তবে এখনো কোনো হদিস মেলেনি বাকি ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তবে, চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের পুরোটাই ফিরে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম ওয়াংয়ের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া দেড় কোটি ডলার এখন ফিলাপাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে। গত মাসের ২৭ তারিখে কিম ওয়াংয়ের কাছ থেকে বাজেয়াপ্তকৃত অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার জন্য আদেশ দেয় দেশটির আদালত। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যেই গত শুক্রবার তারা এ অর্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দেয়।
শনি ও রোববার বন্ধ থাকায় সোম/মঙ্গলবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের যে অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরি হয়েছিল সেখানেই এ দেড় কোটি ডলার জমা হবে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেড় কোটি ডলার হাতে পেলেও বাকি রয়েছে আরো ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর মধ্যে ফিলিপাইনের মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের কাছে ১ কোটি ৭০ লাখ, কয়েকটি ক্যাসিনোর হাতে ২ কোটি ৯০ লাখ এবং এদিক সেদিক ছড়িয়ে থাকা ২০ লাখ ডলার জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পুরণ হতে এরপরও বাকি থাকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ অর্থের কোন হদিস এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই।
উল্লেখ , গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে আট কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনে ও দুই কোটি যায় শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কা থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। রিজার্ভ চুরির ঘটনার জের ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ড. আতিউর রহমান।