প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত সত্ত্বেও বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারছেন না বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা— এরজন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশোধিত মুদ্রা আইন-২০১৫।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এজন্য মুদ্রাপাচার রোধ করাও সম্ভব হচ্ছে না— তাই বিদেশে বিনিয়োগের শর্ত আরোও সহজ করার পাশাপাশি, মুদ্রাআইন আবারও সংশোধন করার দাবি করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম আয়োজিত এক সেমিনারে এ দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের স্বার্থে এ সুযোগ অবারিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল রিজার্ভ জমে আছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। অলস টাকা পড়ে আছে দেশের ব্যাংকগুলোতে এবং ব্যবসায়ীদের হাতে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশে তা বিনিয়োগ হচ্ছে না আর সে কারণে বাড়ছে অর্থ পাচার।
ব্যবসায়ীরা চান বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ –এ সুযোগ পেলে অর্থ পাচার কমে আসবে বাড়বে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বলে জানান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) সভাপতি হাফিজুর রহমান খান।
প্রধানমন্ত্রীও চান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বের সব প্রান্তে। এজন্য ২০১৫ সালে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা আইন সংশোধন করা হয়। তাতে শর্ত সাপেক্ষে শুধুমাত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়।
দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ তার অভিমত তুলে ধরেন।
কিন্তু নানাবিধ শর্ত পেরিয়ে প্রচলতি বৈদেশিক মুদ্রাআইন মেনে বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সব খাতের ব্যবসায়ীদের জন্যই এ সুযোগ অবারিত করে দেয়া উচিত বলে জানান মাতলুব।
বিষয়টি নিয়ে, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ-আইবিএফবির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা দেয়া হবে বলেও সেমিনারে জানানো হয়।