পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় অনিদির্ষ্টকালের ধর্মঘটের ২য় দিন শুক্রবারও কোনো পণ্য পরিবহন চলাচল করেনি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
গতকাল থেকে ভিভিন্ন দাবি নিয়ে ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘট শুরু করেছে ।
এ কর্মসূচির ফলে জেলায় থেকে সব ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই মহাসড়কগুলোতে বেপরোয়া চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে শ্রমিক-মালিকদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
এছাড়াও যমুনা সেতুসহ চট্টগ্রামের দারোগার হাটে ওজন স্টেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ করেছেন তারা।
বগুড়ার মহাসড়কগুলোতে লাঠি নিয়ে অবস্থান করছেন ট্রাক শ্রমিকরা। সড়কে কাভার্ডভ্যান চলাচল করতে দেখলেই পথ রোধ করছেন তারা। বিভিন্ন সড়কে মালবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে নেতাদের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি, সমস্যাটা শুধু বগুড়ার নয়। বসতে হলে ১৬ জেলার মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে বসতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’
বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বগুড়ার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে শিগগিরই বিভাগীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান করা হবে।
মালিক-শ্রমিকদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশির নামে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ; ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপে বাম্পার, সাইড অ্যাঙ্গেল ও হুক অপসারণের সরকারি আদেশ প্রত্যাহার; পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহনের ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও রুট পারমিটের বকেয়া সুদ মওকুফ; ওজন স্টেশন স্কেলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ; চালকদের লাইসেন্স নবায়নে হয়রানি বন্ধ; সহজ শর্তে নতুন লাইসেন্স প্রদান এবং দুর্ঘটনা বন্ধে মহাসড়কে সব ধরনের অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
এদিকে, কোনো ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট শুরু হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।