প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধের পর আশুলিয়ায় সব তৈরি পোশাক কারখানা সোমবার খুলে দেয়া হয়েছে।
সকাল থেকে শ্রমিকেরা দলে দলে নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দিয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইপাইল, জামগড়া, নরসিংহপুর ও এর আশপাশের পোশাক কারখানাও খুলে দেয়া হয়েছে। তবে কারখানাগুলোর সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। শিল্পাঞ্চল এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা যেন কারখানায় প্রবেশ করতে না পারেন মাইকিং তা করে বলা হয়েছে।
যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
শিল্প পুলিশ-১-এর আশুলিয়া জোনের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার সকালে ৫৯টি পোশাক কারখানা খোলার পর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ এবং ৩০ শ্রমিক সংগঠনের লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এ ঘোষণা দিয়ে নিজেদের রুটি রুজি এবং শিল্প ও দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কারখানায় যোগ দিতে শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।
ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের একপর্যায়ে আশুলিয়ায় বেশ কিছু কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
গত ১১ ডিসেম্বর আশুলিয়ার বেরন এলাকায় উইন্ডি গ্রুপের কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতির মাধ্যমে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরের দিন আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতির কর্মসসূচিতে যোগ দেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় গত ২০ ডিসেম্বর ৫৫টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিজিএমইএ। এ ঘোষণার পর দিন নতুন করে কর্মবিরতিতে যোগ দেন আরও চার কারখানার শ্রমিকরা। সব মিলিয়ে এতদিন ৫৯টি কারখানা বন্ধ ছিল।