অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের উল্লম্ফন, রিজার্ভ চুরির মত নজিরবিহীন আর্থিক জালিয়াতি—সব মিলিয়ে একটি ঘটনাবহুল বছর পার করলো দেশের অর্থনীতি।
এ বছর ৭ শতাংশের উপর জিডিপির প্রবৃদ্ধি, জিডিপির অনুপাতে ২৩ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ৬ শতাংশের ওপরে রপ্তানির প্রবৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সাফল্যের সরকারি এসব সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন আছে অর্থনীতিবিদদের।
সমালোচনাও আছে, আর্থিক খাতের চুরি-জালিয়াতি নিয়েও। প্রবাসী আয় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ২০১৬ সাল শুভ ছিল না বলেই মনে করছেন তারা।
৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির প্রবৃদ্ধি এখন ৭.১১ শতাংশ। নানা ঘাত প্রতিঘাত সত্তেও ৬ শতাংশের উপর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি। রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার, নিয়ন্ত্রণে মুল্যস্ফীতি—কমেছে দারিদ্র্যের হার আর বেড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মানব সম্পদ।
তবে নেতিবাচক ধারায় ছিল প্রবাসী আয়, গত ৬ মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসা কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দু/একটি ছাড়া বেশিরভাগ সূচকেই, ২০১৬ সালে অর্থনীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে ছিল।
তবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ রপ্তানির যে সংখ্যা সরকার দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে অর্থনীতিবিদদের।
তাদের মতে, সরকারের এসব তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায় না।
এর পাশাপাশি নানা রকম আর্থিক জালিয়াতির কারণেও আলোচিত ছিল ২০১৬ সাল। নজিরবীহিন রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ঠেকানো যায়নি আর্থিক খাতের চুরি দুর্নীতি। ঋণ খেলাপীরা এ বছরও পার করেছেন সুসময়। আর্থিক কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার হাকডাক দিলেও মূলহোতারা ২০১৬ সাল পার করেছেন নির্বিঘ্নেই।