আদালতের নির্দেশের পরও রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হয়নি— এখনো রয়ে গেছে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ।
ট্যানারি বন্ধে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।
তাদের অভিযোগ, সাভারে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্প নগরী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, তাই তার আগ পর্যন্ত হাজারীবাগেই ক্রাসড লেদার প্রক্রিয়া করার সুযোগ চায় তারা।
এখনো হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো থেকে বের হচ্ছে দুষিত বর্জ্য তবে এ দূষণ এখন আগের চেয়ে অনেক কম।
ট্যানারি এলাকায় ঢুকে দেখা যায়, উৎপাদন কার্যক্রম চলছে প্রায় সব ট্যানারিতেই।
তবে, এখন আর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবেশ দূষণকারী ওয়েড ব্লু উৎপাদন হচ্ছে না, উৎপাদন হচ্ছে ক্রাসড লেদার। পরিবেশ দূষণের প্রায় ২০শতাংশের জন্য এ প্রক্রিয়াকে দায়ী করা হয়।
ট্যানারি মালিকরা বলেন, আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে গণমাধ্যম থেকে জানলেও এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো আদেশ তাদের হাতে পৌঁছেনি।
ট্যানারি নেতাদের অভিযোগ, সাভারে এখন পর্যন্ত গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
আর মালিকদের জমি বরাদ্দ দিলেও, রেজিস্ট্রশন দেয়া হয়নি— তাই পাচ্ছেন না ব্যাংক ঋণ এ অবস্থায় সাভারে ক্রাসড লেদার প্রক্রিয়া করা এখন সম্ভব নয়- বলে দাবি তাদের।
আর শ্রমিকদের দাবি, সাভারে কারখানা চালু না করে হাজারীবাগে বন্ধ করে দিলে তাদেরকে সংকটে পড়তে হবে।
স্বরাষ্ট্র ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহোযোগিতায়, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৬ এপ্রিল হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির-বেলার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছে। এতে অবিলম্বে ট্যানারিগুলো থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।