বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়ছে তবুও বাড়ছে না কর্মসংস্থান। বরং দিনকে দিন কমছে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশে কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে বেকাররত্বের হার ১৪ শতাংশেরও বেশি।
এর ওপর প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ নতুন করে কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতাকেই এর জন্য দুষছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২৪টি পদের বিপরীতে চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজারেও বেশি। অফিস সহকারী বা পিয়ন পদে আবেদন করেছেন স্নাতকোত্তর, এমবিএ পাশ করা শিক্ষার্থীরা। এ চিত্র থেকে দেশের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতির কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সরকারি পরিসংখ্যান, ভাগ্য বদলাতে পারছেনা, বেকার তরুণ-তরুণীদের। ২০১৬ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০০৫-০৬ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে গড়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
আর কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এর পরের ৫ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ। কিন্তু কর্মসংস্থানের চিত্র বদলায়নি। বরং পরের চার বছরে তা আড়াই শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের তথ্য মতে, শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে ৪৭ জনই বেকার। ভারত ও পাকিস্তানে এ হার ৩০ শতাংশ।আপস.
অর্থপ্রতিন্ত্রীর দাবি, শিক্ষার সঙ্গে কর্মের যোগসূত্র না থাকায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। তবে, আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ দিক নির্দেশনা থাকবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। কিন্ত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর হিসেবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি।