রমজানের অজুহাতে আগে থেকেই বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম। চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলায় দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে ইফতারের উপকরণগুলোর দাম বেড়েছে বেশি। তবে দাম বাড়ার এই খবর অস্বীকার করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হলে আগামী ১ জুলাই থেকে নিত্য পণ্যের দাম আরো বাড়বে বলে তারা জানিয়েছেন। ভোক্তা প্রতিনিধিদের আশঙ্কা রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের কারসাজি আর ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিম্ম আয়ের মানুষকে আরও চাপে ফেলবে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ভোজ্যতেলে ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার।
তবে এরইমধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, ছোলা, চিনির দাম কেজি প্রতি গড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেল:
চালের আগের দাম ৫২ আর বর্তমান দাম ৫৮, ডাল আগের দাম ১১০ আর বর্তমান দাম ১৩০, তেল আগের দাম ৯৫ আর বর্তমান দাম ৯০, চিনি আগের দাম ৬৫ আর বর্তমান দাম ৭৫/৮০, পেঁয়াজ আগের দাম ২৮ আর বর্তমান দাম ৩২ ও রশুন আগের দাম ১০০ আর বর্তমান দাম ১২০ এবং ছোলা আগের দাম ৭৫ আর বর্তমান দাম ৯০।
ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের দাম না বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আর দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিল ব্যবসায়ীদের।
তাহলে সপ্তাহের ব্যবধানেই এসব পণ্যের দাম কিভাবে বাড়লো-এমন প্রশ্ন ছিল ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে। জবাবে, চিনি আর ছোলার বাইরে কোনো পণ্যেরই দাম বাড়েনি বলে দাবি মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা।
গত ২/৩ বছরের তুলনায় এ বছর রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য যে অতিরিক্ত বেড়েছে, সে তথ্য কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব'-এর পর্যবেক্ষণেও রয়েছে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা, বাজার মনিটরিংয়ে গাফলতির কারণেই রমজানে পণ্যের দামে লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
এতো গেল রোজা পরিস্থিতি। পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন। সেখানে প্রথমবারের মতো ভোজ্যতেল আর পণ্য পরিবহনে আরোপ হচ্ছে ১৫% ভ্যাট। এর অজুহাত দেখিয়ে নিত্য পণ্যের দাম আরেক দফা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো তৎপর হওয়ার তাগিদ দিলেন তারা।