জনগণের জন্য বাজেট অথচ তাতে জনগণের অংশগ্রহণ নেই, বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের স্বার্থও উপেক্ষিত হয়েছে তাই পুরো বাজেট প্রক্রিয়াকেই অস্বচ্ছ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজেটকে জনবান্ধব এবং গণমুখী করতে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শনিবার দুপুরে রাজধানীতে সিপিডির বাজেট আলোচনায় তারা এসব পরামর্শ দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এমনকি মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের মতামতও উপেক্ষিত হয় বাজেট প্রণয়নে –বলে মন্তব্য করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি।
বিশেষ করে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানহীন জিডিপির প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বের হয়ে বাজেটকে আরো কার্যকর করার পরামর্শ দেন তারা।
৭ শতাংশের ওপর জিডিপির প্রবৃদ্ধি কিন্তু কর্মসংস্থান নেই—নেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও। উল্টো প্রতিনিয়তই নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা বাড়ছে।
আকবর আলি বলেন, আমাদের দেশে যেভাবে বাজেট তৈরি হচ্ছে, তাতে মন্ত্রী-এমপিদের কোনো ভূমিকা নেই। এমনকি এ প্রক্রিয়ায় সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিরও কোনো ভূমিকা নেই।
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে বাজেট দিয়ে মানুষের ভাগ্যোন্নয় হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্যের দিকে নজর না দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে বড় বড় প্রকল্পের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের।
যা দুর্নীতি ও ধনীদের সম্পদ আরো বাড়াতে সাহায্য করবে বলে তারা মনে করছেন।
তবে মন্ত্রীদের দাবি, সব ঠিকভাবেই চলছে। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের স্থবিরতাকে তেমন কোন সমস্যা মনে করছেন না তারা।
মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তার সুফল সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পাবে বলে সরকার মনে করে।
এ সংলাপে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।