খেলাপি ঋণের চাপে সংকটের মুখে দেশের ব্যাংকিং খাত। রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোর পরে এরই মধ্যে মূলধন সংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতের কিছু ব্যাংকও—এ অবস্থায় আরো ৩টি নতুন ব্যাংক এ সংকট আরো তীব্র করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান ও বিআইডিএসের মহাপরিচালকের ড. কে এ এস মুরশিদ।
নতুন ব্যাংকের অনুমোদন না দিয়ে সরকারকে এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে অবলোপন করার পরেও খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর জেরে বিপুল পরিমাণে মূলধন ঘাটতিতে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলো। একসময়কার মডেল হিসেবে পরিচিত বেসিক ব্যাংককে একরকম অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
এই অনিয়মনে ধাক্কা লেগেছে বেসরকারি খাতেও। রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাড় পাওয়া নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই চলছে ধুকে ধুকে। এর মধ্যে ফার্মার্স ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।
এ অবস্থায় শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে আরো ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া দেশের আর্থিক খাতের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম আর জালিয়াতির যে রীতি চালু হয়েছে নতুন ব্যাংক এলে তার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। তাই এসব প্রতিরোধেই সরকারকে বেশি মনোনিবেশ করতে হবে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে, অনেক আলোচনা সমালোচনার পর গতকাল বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায় সেদিকে সজাগ থাকতে দুদককে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।