রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা নিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচনা হয়েছে। তাদেরকেও এ মামলায় বাদী হিসেবে পাশে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্ক বা সুইফট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে একাধিক ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রাখা বাংলাদেশের ১ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়। তার মধ্যে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন-আরসিবিসিতে যায় ৮১ মিলিয়ন ডলার।
এ নিয়ে ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানিও হয়। ওই চুরির ঘটনায় ভূমিকার জন্য রিজালের বিরুদ্ধে মামলা করা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচনা করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গতমাসে এক কনফারেন্স কলে রিজালের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্ক এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। মেসেজিং নেটওয়ার্ক সুইফটের দুজন প্রতিনিধিও ওই আলোচনায় ছিলেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ নিউ ইয়র্কে ওই দেওয়ানি মামলাটি করা হবে। বাংলাদেশ আশা করছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্ক ও সুইফট কর্তৃপক্ষও সেখানে বাদী হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা নিউইয়র্কে পাঠানো হবে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তথ্যদাতাদের একজন।
অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেছেন, ওই রকম কোনো মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থ ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অবশ্য নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। এমনকি বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই মামলায় যুক্ত হওয়ার কোনো ইঙ্গিতও তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।