দায়িত্বে অবহেলা ও ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে বেসরকারি খাতের দ্য ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম শামীমকে মঙ্গলবার অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী এমডিকে অপসারণের চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে চাপের মুখে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের তিন সপ্তাহের মাথায় এমডিকে অপসারণ করা হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, সকালে গভর্নর ফজলে কবিরের নির্দেশ ফারমার্স ব্যাংকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে আমানতকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করা হয়েছে।
এ কে এম শামীমকে কেন ওই পদ থেকে অপসারণ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে গত ২৬ নভেম্বর নোটিস দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাত দিনের মধ্যে ওই নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
সেই নোটিসে দুটি অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়, ফারমার্স ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় এমডি ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে নগদ জমা বা সিআরআরের এবং সংবিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআরের অর্থ রাখতে পারেননি তিনি। তার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করে গেছে।
এমডিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নোটিসের পরদিনই ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগের খবর আসে। ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীও পদত্যাগ করেন।
তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ওইদিনই মোহাম্মদ মাসুদকে নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়।
সেইসঙ্গে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটি, অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের কথাও জানানো হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, তারল্যসংকটে পড়া ব্যাংকটি থেকে পাওনা টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা— ফলে তারা প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায়।