শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে— উন্নয়নের সুফল দরিদ্র জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। দেশটিভিকে দেয়া একান্ত স্বাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারের কাজ সম্পদ সৃষ্টি করা। সেই সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই দেশে উন্নয়ন হয়ে থাকে। সুফলভোগী কারা কিংবা কার ভাগে কতোটা পড়লো, তা দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশের পথে বাংলাদেশমন যাত্রা শুরু হলেও—এখনো প্রায় ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে- সরকারের উন্নয়ন অর্থহীন।
তারা আরো বলেন, সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত না করতে পারলে- উন্নয়নের স্বীকৃতিতে কোন লাভ হবে না। তবে কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে এ বৈষম্য কমিয়ে- উন্নয়নকে আরো অর্থবহ করতে চাচ্ছে সরকার। উন্নয়নে দরিদ্রদের অংশ একেবারেই নগণ্য। সুফলের সিংহভাগ সুবিধাভোগী সমাজের উচু তালার মানুষ। তাই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও বেড়েছে।
এ অবস্থায় উন্নয়শীল দেশের কাতারে পৌঁছানোর স্বীকৃতি কতোটা অর্থবহ— তা নিয়ে প্রশ্ন আছে বলেও জানান বিশ্লেষকরা।
তারা বলেন, জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিক আর নাই দিক, উন্নয়নের ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠির কাছে না পৌছালে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না।
এ জন্য সম্পদের বণ্ঠন ব্যবস্থায় সংস্কার করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের। এছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির কোন মানে নেই বলে মনে করেন তারা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে এক কেজি মোটা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। অথচ দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষের দৈনিক গড় আয় ৬০ টাকার নিচে। সরকারের হিসেবে তারা দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে।