উন্নয়নশীল দেশের পথে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও এখনো প্রায় ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে।
সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়নের স্বীকৃতিতে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
তবে সরকার মনে করে উন্নয়ন হলেও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকবেই। কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে এই বৈষম্য কমিয়ে সরকার উন্নয়নকে আরো অর্থবহ করতে চাচ্ছে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান।
বর্তমানে এক কেজি মোটা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। অথচ দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষের দৈনিক গড় আয় ৬০ টাকার নিচে। সরকারের হিসেবে তারা দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে।
অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ বলেন, উন্নয়নে দরিদ্রদের অংশ একেবারেই নগণ্য।
সুফলের সিংহভাগ সুবিধাভোগী সমাজের উচু তালার মানুষ— তাই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও বেড়েছে এ অবস্থায় উন্নয়শীল দেশের কাতারে পৌঁছানোর স্বীকৃতি কতোটা অর্থবহ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, সরকারের কাজ সম্পদ সৃষ্টি করা। সেই সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই দেশে উন্নয়ন হয়ে থাকে। সুফলভোগী কারা কিংবা কার ভাগে কতোটা পড়লো তা দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিক আর নাই দিক উন্নয়নের ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে না পৌঁছালে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না। এ জন্য সম্পদের বণ্ঠন ব্যবস্থায় সংস্কার করার পরামর্শ তাদের।
শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে, উন্নয়নের সুফল দরিদ্র জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা সরকার করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন। এছাড়া, সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির কোনো মানে নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।