তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি যুগ ১৩ বছরের পুরোনো জাহাজে শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি'র টার্মিনাল জাহাজটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ জ্বালানি এ খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ১৫ বছরের জাহাজের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে এ ধরনের জাহাজের গড় মুল্য আড়াই হাজার কোটি টাকারও কম। সে হিসেবে, একটি শুধু জাহাজেই বাংলাদেশের লোকসান প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। মুলত দুর্বল চুক্তির কারণেই বাংলাদেশকে এ লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে, জ্বালানি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে।
১ লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার গ্যাস নিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে এসে পৌছেছে, এলএনজি টার্মিনাল জাহাজ। ৩০ বছর আয়ুস্কালের ১৩ বছর এরই মধ্যে পার করে ফেলেছে জাহাজটি। আর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, ১৫ বছরের চুক্তি শেষে, জাহাজটি বাংলাদেশের কাছে দিয়ে যাবে এক্সিলারেট এনার্জি। এর জন্য চড়া মুল্যও নেওয়া হচ্ছে। আপস.
চুক্তি অনুযায়ী, জাহাজের ভাড়া এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ বাংলাদেশ এক্সিলারেট এনার্জিকে বছরে দেবে ৭২০ কোটি টাকা করে। সে হিসেবে ১৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে ১৩ বছরের পুরনো এ ধরনের জাহাজের গড় দাম ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
জ্বালানি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, কোনো রকম দরপত্র ছাড়াই, বিশেষ বিধানে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। চুক্তিতে জাহাজের মুল্য আলাদা করে উল্লেখ না করায়, সহজেই প্রতিষ্ঠানটি কয়েকগুন বেশি দামে এমন একটি পুরোনো জাহাজ গছিয়ে দিতে পেরেছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।
আগামী মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এ টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।