নির্বাচনের বছরে ভোটার আকৃষ্ট করার বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ সালের বাজেট উত্থাপন করেন তিনি।
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষক, বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংক মালিক, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে উচ্চবিত্ত সবাইকে খুশি করা চেষ্টা করা হয়েছে বাজেটে।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে কমানো হয়েছে ব্যাংকের করপোরেট কর। তবে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। ভ্যাটের স্তর কমানোর পাশাপাশি ভ্যাট অব্যাহতিও আছে অনেক পণ্যে।
ব্যাপক আকারে বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আকার। রাস্তাঘাট মেরামত, পদ্মা সেতু মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পে বাড়তি গুরত্ব দেয়া হয়েছে এ বজেটে। এতসব ছাড়ের কারণে, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে এ বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ।
ভোট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ভোটার আকৃষ্ট করতে বেশ হিসাবি বাজেট প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।
কারো কাছ থেকে সরাসরি বাড়তি কোনো অর্থ না নিয়ে কিভাবে সবাইকে খুশি করা যায় সেই চেষ্টাই আছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটের আয়-ব্যয়ের প্রতিটি হিসেবে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ও আয়কর হার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিদ্যমান ভ্যাটের ৯টি স্তরেকে ৫টি স্তরে নামানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তা বেশ হিসেবে করে। যাতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর প্রভাব না পরে।
ভ্যাট অব্যাহতির তালিকাও বাড়ানো হয়েছে বাজেটে। কেজি প্রতি ১৫০ টাকার নিচে রুটি, বিস্কুট ও কেকের ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেয়া হয়েছে। ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামের স্যান্ডেল বা চপ্পলেও ভ্যাট থাকছে না। দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, টিভি-ফ্রিজের ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে। বিমার এজেন্ট কমিশনের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক খাতের করপোরেট কর হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যাতে খুশি হবেন দেশের ব্যাংক মালিকরা।
নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের খুশি রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। মাত্র ৫ শতাংশ সুদে সর্বনিম্ন ২০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ বাবদ বাজেটে ১৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর ঘোষণাও দেন অর্থমন্ত্রী।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের খুশি করতে একটি সর্বজনীন পেনসন স্কিমের রূপরেখা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আর ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেকারদের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে বাজেটে।
দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভূক্তির দাবিতে থাকা স্কুল শিক্ষকদের সন্তুষ্ট করতে এক হাজার স্কুলকে এমপিও ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বাজেটে ১৫ শতাংশ উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এ খাতে এ বছর বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা ।
টিআর কাবিখা চলবে বছরব্যাপী। গ্রামীণ ও পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের।
নির্বাচনের আগে গ্যাস ও বিদ্যুত খাতে ভর্তুকিও বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে সকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি প্রচারের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা ।
৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। অনেক ছাড় দেয়ার পর এ বিশাল অংকের রাজস্ব আদায়ই হবে আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।