বরাবরের মতো এবারও সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা-ভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
হিজড়া, দলিত, হরিজন ও বেদে, চা শ্রমিকসহ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে দ্বিগুণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এবারই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার এবং নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
এছাড়াও অস্বচ্ছল যুদ্ধাহত এবং অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের পরিবারের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সরকারের আগের নয়টি বাজেটের ধারাবাহিকতায় এবারও গুরুত্ব পেয়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার অনেক অগ্রসর হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের যৌক্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
(প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটঃ সামাজিক নিরাপত্তা খাত:
বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখে উন্নীত করা।
অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখে উন্নীত করা।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির হার প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত গড়ে ২০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার এবং নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব।
মাতৃত্বকালীন ভাতা জনপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ করার প্রস্তাব।
কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া প্রতিটি উপজেলায় ভিজিডি উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত করা।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত হিজড়া, দলিত, হরিজন, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ, চা শ্রমিকদের আপতকালীন খাদ্য সহায়তা এবং ক্যান্সার, কিডনী ও লিভার সিরোসিস আক্রান্ত গরীব রোগীদের জন্য বাজেটে কমপক্ষে ১০শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাল্যবিয়ে বন্ধসহ নারীদের নানামুখী প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাব, শিশুর শারিরীক ও মানসিক বিকাশে যেসব কর্মসূচি রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, গণকবরসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি সংরক্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রকল্প চলমান থাকবে।
এবারও শিশু বাজেটের পাশাপাশি নারী উন্নয়নে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের পরিধি বৃদ্ধি, নারীর প্রতি সহিসংতা বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে বরাদ্দ বৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণে আরো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বৃদ্ধিসহ সামাজিক সচেতনামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট অধিবেশনে।