ব্যাংকের ঋণ আমানতের সুদের হারে বিশৃঙ্খলার কারণে কিছু কিছু ব্যাংক ৯ শতাংশে ঋণ বিতরণ শুরু করলেও আমানত আসছে না ৬ শতাংশে। এ অবস্থায় সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ১০ শতাংশের নিচে ঋণের সুদের হার বেশিদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন ব্যাংকাররা।
আর উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া এ সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংক খাতকে তছনছ করে দেবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ।
৩ মাস থেকে ৬ মাস কিংম্বা বিভিন্ন মেয়াদী আমানত সুদের হার ৬ শতাংশ। ১০ শতাংশের উপরে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার এবং প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি মুল্যস্ফীতির বাজারে ৬ শতাংশ সুদে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা নিরুৎসাহিত করছে আমানতকারীদের।
ব্যাংকে টাকা জমা রাখার পরিবর্তে বরং তারা এখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সঞ্চয়পত্র কিনছেন কিংম্বা অন্যত্র বিনিয়োগ করছেন।
এ অবস্থার মধ্যেও উপর মহলের নির্দেশে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ শুরু করেছে কয়েকটি ব্যাংক। তবে ৬ শতাংশে আমানত না পেলে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করে কতদিন টিকতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহীম খালেন মনে করেন, ৯-৬ এর সিদ্ধান্তে আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। লাভবান হচ্ছে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী। এটি দেশের ব্যাংকখাতকে আরো সংকটে ফেলবে বলে আশংকার তার।
একদিকে মালিকদের অধিক মুনাফার চাহিদা আর অন্যদিকে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণের চাপ—এ দুইয়ে মিলে এখন উভয় সংকটে ব্যাংকের নির্বাহীরা।