রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফেব্রুয়ারি মামলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে— সভায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটকে মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পেয়ে রোববার রাতে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।
তবে কাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রিজার্ভ চুরির ঘটনায় নিয়োগ করা আইনজীবীরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলা করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েই এ দলটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। সেখানে ল'ফার্মের সঙ্গে আলাপ করে মামলার বিষয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
জানা গেছে, ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে— এক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সহায়তা নেয়া হতে পারে।
এবছর গত ২০শে জানুয়ারি নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এ মাসের ভেতরেই মামলা হবে—আর এ মামলা দেখভালের জন্য বাংলাদেশের একজন আইনজীবী রয়েছেন, তেমনি আমেরিকায়ও একজন আইনজীবী আছেন। তারা যৌথভাবে সময় নির্ধারণ করে মামলা করবেন।
কতজনকে আসামি করা করব কতজনকে বাদী করব-এগুলো দুই দেশের আইনজীবীরা বসে ঠিক করবেন জানান তিনি।
প্রসঙ্গত: ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশে ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ৮১০ কোটি টাকা চুরি হয়। যদিও সেটি প্রকাশ পায় একমাস পরে।
সুইফট কোডের মাধ্যমে ৮১০ কোটি টাকা শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২৭৩ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া গেলেও, বাকি ৫৩৭ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরণের ঘটনার তিন বছরের মধ্যে মামলা না করলে সেটি গুরুত্ব কমে যায়। ফলে আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
ওই চুরির ঘটনায় আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপককে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ফিলিপাইনের আদালত।
যদিও এরপরে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং অর্থ ফেরত আনার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। ঘটনার পরপরই তৎকালীন গর্ভনর আতিউর রহমান পদত্যাগও করেন।
এরপর সাবেক গর্ভনর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়, যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে কিন্তু সেই প্রতিবেদন সরকার প্রকাশ করেনি। এই ঘটনার তদন্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও।
যেখানে গত তিনবছরেও তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।