আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।
গ্যাস সঞ্চালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব আমলে নিয়ে এরইমধ্যে গণশুনানির তারিখও ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
গ্যাসের দাম বাড়াতে বিইআরসির এই উদ্যোগ আইনের লঙ্ঘন ও অন্যায় বলে মনে করেন ভোক্তা অধিকার সমিতির জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম।
নিয়ম অনুযায়ী একই অর্থবছরে একবারের বেশি দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
নির্বাচনের পরপরই গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য বিইআরসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছে গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণকারী ৭টি প্রতিষ্ঠান। এতে গ্যাসের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তিতাস গ্যাসের প্রস্তাব অনুযায়ী এক চুলার ক্ষেত্রে আগের ৩৩ শতাংশ আর দুই চুলার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
সার কারখানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ১৫৮ শতাংশ, বিদ্যুতে ১৪২ শতাংশ, শিল্পে ৯৩ শতাংশ আর সিএনজিতে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে তিতাস গ্যাস। এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে এলএনজির উচ্চ দামকে।
গ্যাস বিতরণ ও সঞ্চালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এই প্রস্তাব আমলে নিয়ে আগামী ১১ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর ওপর শুনানির আয়োজন করেছে কমিশন।
এর আগে গতবছর অক্টোবরে এক দফা দাম বাড়িয়েছে কমিশন।
বিশ্লেষকরা বলেন, এনার্জি কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একই অর্থ বছরে দুইবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
উপরন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমানে কোনো রাজস্ব ঘাটতি নেই। যে পরিমাণে এলএনজি আসার কথা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে তার অর্ধেক। তাই যতোটুকু এলএনজি যোগ হচ্ছে তাতে গ্যাসের দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছেন না তারা।
বর্তমানে সরবরাহকৃত ২২ কোটি ঘনফুট পাইপ লাইন গ্যাসের মূল্য ৭ টাকা ১৬ পয়সা প্রতি ঘনফুট। আর প্রায় ৪ কোটি আমদানিকৃত এলএনজির মূল্য প্রায় ৩২ টাকা প্রতি ঘনফুট।