ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতাস্মারক সই করেছে বাংলাদেশ-সৌদি আরব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সই করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
সৌদি আরবের দুই মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের ঐতিহাসিক এ সফরে দেড় থেকে আড়াই হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসা করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সৌদি আরব সিরিয়াস বলে জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী।
এর আগে সকালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এ কথা জানান তিনি।
এসময় বাংলাদেশ-সৌদি আরব প্রমোশন কাউন্সিল করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
বিদ্যুৎ, মানব সম্পদ ও রাসায়নিক কারখানায় বিনিয়োগ ও পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যেশ্যে বৃহস্পতিবার ২ দুটি চুক্তি ও ৪ টি সমঝোতা স্বরাক সই করেছে সৌদি বাংলাদেশ। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এসব চুক্তিতে সই করেন।আপস.
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ-বিডা আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নেন সৌদি আরবের প্রতিনিধি দল।
সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ীসহ ৫২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
ইসলামি ব্যাংক ছাড়া বাংলাদেশে সৌদি আরবের কোনো বিনিয়োগ নেই। গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে আসেনি। স্বভাবতই ঐতিহাসিক এই সফরকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি প্রতিনিধি দল।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী প্রস্তাব দেন একটি প্রমোশন কাউন্সিল করার।
এই সফর থেকে বড় ধরনের প্রাপ্তি আশা করছে বাংলাদেশেও।
দেশের বিমান মেরামত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে দেড় থেকে আড়াই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম।
তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সৌদি আরব। সেজন্য নানা ধরনের সেবা-পণ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে দেশটি। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় তারা। যার অংক বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সৌদি আববের মধ্যে বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমান দেড়শো কোটি ডলারের নিচে।