ভাল মানের ১০টি সিগারেটের খুচরা মূল্য নূন্যতম ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার সুপারিশ করেছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। আর একইসঙ্গে নিম্মমানের ১০টি সিগারেটে ৫০ টাকা করার সুপারিশ তাদের। আসছে বাজেটে সিগারেটে এ শুল্ক নির্ধারনের সুপারিশ করেছে সংগঠনগুলো।
এছাড়া ফিল্টারবিহীন বিড়ি-সিগারেটের ২৫টির মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানোর সুপারিশ তাদের।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। এ সময় তামাকজাত পণ্য বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান বিশিষ্ট জনেরা।
তামাকের ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, করারোপের ফলে তামাকের প্রকৃত মূল্য ১০ শতাংশ বাড়লে নিম্ম ও মধ্যম আয়ের দেশে এর ব্যবহার ৫ শতাংশ কমে। যা জনস্বাস্থ্যের নিরিখে প্রসংশনীয় সূচক হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু বাংলাদেশে তামাকে করারোপের ক্ষেত্রে এর উল্টোই হচ্ছে।
প্রকৃত ও কার্যকর করারোপ না করায় এখানে তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়না; বরং অনেক ক্ষেত্রে সহজলভ্যই থেকে যায়। তাই প্রতিবার বাজেটে তামাকের ওপরে কর বৃদ্ধির বিষয়টি জোরেসোরেই ওঠে।
এবারো বেসরকারি সংস্থাগুলো সংবাদ সম্মেলন করে তেমনই সুপারিশ নিয়ে তুলে ধরেছে। তারা উচ্চ ও নিম্ম মানের সিগারেট, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকের ওপরে আরো করারোপের সুপারিশ করেছে।
এদিকে, তামাক ব্যবহারের চিত্র বলছে, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনকারির সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। আর ধূমপায়ী ১ কোটি ৯২ লাখ। এদের মধ্যে উচ্চবিত্ত ২৪ শতাংশ, অতিদরিদ্র ৪৮ শতাংশ।
পুরুষের পাশাপাশি তামাক ব্যবহারকারী নারীদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে তরুন প্রজন্মও। বিশিষ্টজনেরা জোর দিয়েছেন সচেতনতার ওপরে।
পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-- সর্বত্র সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন অনেকে।
৫টিরও বেশী বেসকারি সংস্থা দেশের তামাকের ব্যবহার কমাতে কাজ করছে বাংলাদেশে।