যানজট কমাতে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গেল ৪ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় রাজধানীর বাইরে একমাত্র চট্টগ্রামেই মেট্রোরেল করার ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু এই মেট্রোরেল কে বানাবে? চীন নাকি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান- সেই ঠেলাঠেলিতে ঝুলে আছে চট্টগ্রামের মেট্রোরেল প্রকল্পটি।
কথা ছিল কোরিয়ান একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করবে। ঠিক কাজ শুরুর আগ মুহূর্তে চীন সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের টাকায় চট্টগ্রামে মেট্রোরেল ও একটি স্মার্ট সিটি বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। যদিও সেই স্মার্ট সিটিতে মালিকানাও চেয়েছে চীন।
আমাদের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি আলমগীর সবুজ জানান, গেল ৭ ব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সাথে মেট্রোরেল নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা করেন। সেখানে মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দিতে আগ্রহ দেখায় কোয়োক নামক একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান।
এর পর চীনের চারটি সরকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের খরচে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সেই সাথে ৬০ বর্গকিলোমিটারের একটি স্মার্ট সিটিও বানানোর প্রস্তাব দেয় তারা। বিনিময়ে তারা ওই স্মার্টসিটির অংশীদারিত্ব চেয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস দেশ টিভিকে জানান, স্মার্ট সিটির অংশীদারিত্ব চাইলেও তার পরিমাণ প্রস্তাবে উল্লেখ করেনি চীন। তিনি আরও বলেন, টানেল, বে-টার্মিনাল, গভীর সমুদ্র বন্দর, মিরসরাই ইকোনমিক জোনসহ একটি স্মার্ট সিটির প্রয়োজনীয়তার কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে চীন। এই দুটি প্রস্তাবই সরকারের নজরে রয়েছে। দেশের স্বার্থ বিবেচনায় যে প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে এর পরই কাজ শুরু হবে।
বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া ঐ প্রস্তাবনায় চীন বলেছে, তাদের পরিকল্পনা মাফিক কাজ করলে এবং এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এই প্রকল্প ১ দশমিক ১ থেকে ৩ শতাংশ অবদান রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনা কোম্পানী এখনো অনুমোদন না পেলেও সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সরকার অনুমোদন দিলে কাজ শুরু হতে দুই বছর লাগতে পারে।