অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, বিআইসিএমের সম্মেলনে বক্তারা

বিআইসিএমের সম্মেলন
বিআইসিএমের সম্মেলন

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)-এর আয়োজনে “টুয়ার্ড গ্রেটার পার্টিসিপেশন অফ উমেন ইনভেস্টর্স ইন দ্য বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট” শীর্ষক সম্মেলনটি মঙ্গলবার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে উদীয়মান, প্রতিশ্রুতিশীল নারী বিনিয়োগকারীদের অধিকতর সক্রিয় অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যেখানে দেশের পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। পুঁজিবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে লাভ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এ সম্মেলনের একটি লক্ষ্য।

সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, “বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে পুঁজিবাজারে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারীরা এখনো এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। নারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা বোধ করেন যা শিক্ষার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব।”

তিনি বলেন, “নারীদের পুঁজিবাজারে আগ্রহী করতে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম আয়োজন করছে। এছাড়া, বিনিয়োগকারী হিসেবে নারীদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে প্রজ্জ্বলিত করার সাথে সাথে নারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে লাভ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা লক্ষ্যে কাজ করছে বিআইসিএম।”

সম্মেলনটির উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার পাশাপাশি এসডিজি (SDG)-এর ৫ নম্বর গোলে বেশ কিছু উপধারা রয়েছে। নারীদের পুঁজিবাজার বিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ৩টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে –বিএসইসি-এর একটি ট্রেনিংউইং, বিআইসিএম ও বিএএসএম।”

তিনি জানান, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে শহরে থেকে গ্রামঞ্চলে সবার মাঝে ছাড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। শ্রীঘ্রই ময়মনসিংহে এ বিষয়ক বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে নারীদের ৫০ জনের একটি দল যদি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আবেদন করে তাহলে কমিশন আবেদনকারী দলের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে।

সম্মেলনটির সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. রুমানা ইসলাম বলেন, “পুঁজিবাজার ছেলেদের জায়গা এটা ভেবেই হয়তো নারীরা এই সেক্টরে কম আসেন। তবে নারীদের নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টা এই চিত্র বদলাতে পারে। এবং বুঝে শুনে সবার আর্থিক বাজারে আসা উচিত।”

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের সহকারী অধ্যাপক জনাব কাশফীয়া শারমিন, সহকারী অধ্যাপক। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, “গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে। এতদসত্ত্বেও প্রায়শই নারী বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন রকমের গুরুতর বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়, যেমন: স্টার্ট-আপ মূলধন পেতে অসুবিধা বা যথাযথ আর্থিক সক্ষমতার অভাব। পরিসংখ্যান বলেযে, পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের হার পুরুষদের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা একটি প্রগতিশীল, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য বেমানান এবং যেসব বাঁধাসমূহ নারীদের পুঁজিবাজারে অধিকতর অংশগ্রহণে বাধা দেয় তা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন।”

এই সম্মেলনে পুঁজিবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান সমস্যা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। নারী বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।

এরপর প্যানেল আলোচনায় জনাব খুজেস্তা নূর- এ-নাহারীন( ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মর্ডান সিকিউরিটিজ লিমিটেড) বলেন, “নারীরা এখন অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী। তারা এখন বিনিয়োগের জায়গা খোঁজেন। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকলেও জেনে শুনে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো যায়। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের মাসসিক প্রস্তুতি থাকলে এই মার্কেট থেকে লাভ অর্জন সম্ভব।”

আলোচনায় তানিয়া শারমিন ( ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও, সিএপিএম এডভাইজরি) বলেন, “আমাদের পুঁজিবাজারে স্পেসেফিক এইচ আর পলিসি নেই, যার কারণে নারীরা এখানে বৈষম্যের শিকার হয়। তিনি কমিশন কে এইচ আর পলিসি নিয়ে কাজ করার অনুরোধ করেন। এই মার্কেটে কাজ করার সুযোগ জানার জন্য পাঠ্যক্রমে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি যোগ করা অত্যাবশ্যক।এছাড়াও, বোর্ডে কতজন নারী সদস্য থাকবে সেটার কোটা করে দিতে পারে কমিশন।

প্যানেল আলোচনায় কামরুন (নাহার, সিইও, এনবিএল ক্যাপিটাল এন্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড) বলেন, “সময় উপযোগী এবং ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। মেধা থাকলে পুঁজিবাজারে কাজ করাও বিনিয়োগ করা শতভাগ নিরাপদ ও নারীবান্ধব। ইক্যুইটি ভিত্তিক এই মার্কেটে বন্ড,মিউচ্যুয়ালফান্ড, ইউনিকফান্ড, সুকুক-এর মতোনতুন নতুন প্রোডাক্ট এসেছে। এইসব প্রোডাক্টে বিনিয়োগ করলে বেনিফিটও আছে। প্রয়োজন শুধু দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ধরে রাখা।”

সম্মেলনে প্রায় নারীশিক্ষার্থী, পেশাজীবি এবং গৃহিণীরা অংশগ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে নারীদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবে তাদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা রাখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা।

দেশটিভি/এমএনকে
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

ইবিএইউবি-এ পালিত হলো ‘শেখ রাসেল দিবস’

আবার দাম কমেছে স্বর্ণের

জুয়েলারি পণ্য অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে: এফবিসিসিআই সভাপতি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে বিজিএমইএ, আইজি ও আয়াত এডুকেশন

‘চায়না-বাংলাদেশ বাণিজ্য সহজীকরণ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ