চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) এপ্রিল পর্যন্ত মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তদন্তাধীন ৯টি মামলার বিপরীতে ৮৬৬ কোটি টাকা জব্দ করেছে। শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বিএফআইইউ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমের ২০ বছর’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বিশেষ অতিথি ছিলেন, এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। এ ছাড়া বিএফআইইউ’র একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
বিএফআইইউ’র অতিরিক্ত পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘পাচার করা অর্থ উদ্ধার জটিল কাজ। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের বিষয়ে সুইস অথোরিটির কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের ৬৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পর্কে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ।’ ২০১৪ সাল থেকে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে থাকা তথ্য প্রকাশ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে সেই তথ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, বিভিন্ন দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৮০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করেছে বিএফআইইউ।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত এক বছরে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ নজিরবিহীন ভাবে বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশিরা সুইস ব্যাংকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা করেছেন।