ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে পরিদর্শন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে এসব পরিদর্শন প্রায় বন্ধ ছিল। তবে নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনই জানালেন, ব্যাংক পরিদর্শন হবে এবং খুব শিগগির পরিদর্শনের বিষয়ে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ কথা বলেন।
নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমি আজ যোগদান করেই ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান, নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। পরিদর্শন নিয়ে শিগগির একটা পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
গর্ভনর বলেন, আমাদের প্রধান গুরুত্ব হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার স্থিতিশীল রাখা। এটা করতে আমদানি-রপ্তানি যে ব্যবধান আছে সেটা কীভাবে কমিয়ে এনে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে চেষ্টাই করা হবে। এরপর আমাদের কাজ হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো।
তিনি বলেন, একসময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির কারণে এখন তা নিচে নেমে এসেছে। এটা গ্রহণযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে। ছয় মাসের আমদানি পরিশোধ করা যায় এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়াই হবে আমার প্রত্যাশা।
গভর্নর বলেন, দু-একটি ছাড়া আমাদের বেশিরভাগ ব্যাংক ভালো অবস্থায় আছে। এগুলো সংস্কার করার চেষ্টা থাকবে। খেলাপি ঋণ গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং মূলধন ঘাটতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আনার চেষ্টা থাকবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করবো।
কেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বুদ্ধিবৃত্তিক, পেশাদারিত্ব ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে দেখতে চাই।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান, এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বস, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।