সারাদেশে ২৩৪টি পৌরসভায় একযোগে ভোটগ্রহণ কাল-বুধবার। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হচ্ছে এ স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
প্রায় আট বছর পর সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে কিছুটা সংঘাত, রাজনৈতিক কোন্দল আর প্রার্থীদের রেষারেষিও দেখা গেছে নির্বাচনী মাঠে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ বিশ্লেষকদের অসন্তোষ থাকলেও কমিশন আশা করছে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট দিতে পারবেন। তবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পেতে হলে কমিশনের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। দেশের ৩৩২টি পৌরসভার মধ্যে ২৩৪টি পৌরসভায় একযোগে সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরইমধ্যে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে গেছে কেন্দ্রগুলোতে।
২৩৪টি পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৬০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭ জন। নারী ভোটার ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৬ জন।
ভোট কেন্দ্র ৩ হাজার ৫৫৫টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৮৪ ভোট কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলছে গোয়েন্দা সংস্থা। আর ভোটকক্ষ ২১ হাজার ৭১টি।
২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে-
মেয়র পদে ৯৪৫ জন, কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৭৪৬ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২৪৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এরইমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় মোটরযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে বহিরাগতদের জন্যও। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সবধরণের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন।
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন বলে জানান মো. শাহনেওয়াজ।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় প্রতীকে প্রথমবার পৌরসভার মেয়র নির্বাচন হওয়ায় সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশের মোকাবেলা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।
আর নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দেড় লাখ সদস্যকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী:
পুলিশ ৭০ হাজার, র্যা ব সদস্য ৮ হাজার ৪২৪ জন, বিজিবি ৯ হাজার ৭৬৫ জন। এছাড়াও আনসার ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৩৬টি সংস্থার সাড়ে চার হাজার পর্যবেক্ষক।