ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে বিজয়ের পথে রয়েছেন। আর বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় চেয়ারম্যান পদে ৩১ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ৬৩৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩০টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আর সহিংসতার কারণে ৯টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ৬৩০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৪৫৫, বিদ্রোহী প্রার্থী ৬৪ জন আর বিএনপি প্রার্থী ৫৮, বিদ্রোহী প্রার্থী ৬ জন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা ৪৭টিতে জয়ী হয়েছেন।
স্থগিত ৩৩ কেন্দ্র ছাড়া বাকি ৬ হাজার ১৭২টি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়ার পর কেন্দ্রেই ভোট গণনা শুরু হয়।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিভিন্ন দল মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৬৬২ জন প্রার্থী অংশ নেন। বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় চেয়ারম্যান পদে ৩১ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
আর সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু ও মিরেশ্বরাই উপজেলার সবকটি ইউপিসহ দেশের অনেকস্থানের বিএনপি মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
এদিকে, গ্রামগঞ্জের এ ভোটে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। বেশিরভাগ ইউনিয়নেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা।
দ্বিতীয় দফায় ৬৩৯টি ইউনিয়নে কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বেশিরভাগ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলেও কেরাণীগঞ্জ, যশোর ও জামালপুরসহ বেশ কিছু জায়গায় সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও অনিয়মের অভিযোগে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
আর ভোটগ্রহণের সময় অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে ৬৩৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ২,৬২৬ জন। ইউপি সদস্য পদে ২১,২৫৯ জন আর সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬,৪৯৮ জন প্রার্থী।