ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ব্রিটেনের মানুষের এই রায়ের দিনটিকে ব্রিটেনের স্বাধীনতা দিবস বলে অভিহিত করেছেন ইউকেআইপি নেতা নাইজেল ফারাজ।
এদিকে, লেবার পার্টির নেতার জেরেমি করবিন বলেছেন, এর ফলে ব্রিটেনের অনেক কমিউনিটিই প্রান্তিকে পড়ে যাবেন। গণভোটের ফল ঘোষণার এ দিনটিকে স্বাধীনতার দিন বলছেন ব্রেক্সিট পক্ষ।
আর ইইউতে থাকার পক্ষের মানুষরা একে বলছেন ইইউ আর বৃটেনের দু:খের দিন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এমনটিই বলেছেন।
এদিকে, এরই মধ্যে স্কটল্যান্ড শেষপর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকবে কিনা এ বিষয়টিও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা ইউজিন বলেছেন, স্কটিশরা ইউরোপে থাকার মধ্যেই তাদের ভবিষ্যত দেখছে।
পাশাপাশি উত্তর আয়ার ল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দল সিন ফেন জানিয়েছে, এ ভোট ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে গণভোটের দাবীকে আরো জোরালো করবে।
দীর্ঘ ৪৩ বছরের সম্পর্ক। শেষপর্যন্ত সে সম্পর্ক চুকিয়ে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তই নিলো বৃটেনের মানুষ। ১৯৭৫ সালে ইইউতে যুক্ত হয়েছিলো যুক্তরাজ্য। তবে নিজেদের অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশটি আশ্রয় নেয় গণভোটের। যা ব্রেক্সিট নামে আলোড়ন তোলে পুরো বিশ্বে।
গত চার মাস ধরে তুমুল প্রচার-প্রচারণা চলেছে এর পক্ষে-বিপক্ষে। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে চলা এ গণভোটের রায়ে চুড়ান্ত হয়- বৃটেনের আলাদা হওয়ার বিষয়টা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের ঐতিহাসিক এই বিচ্ছেদের পথে যাওয়া না যাওয়ার গণভোটে অংশ নিয়েছিল বৃটেনের ৭২% ভোটার। স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ার ল্যান্ড, লন্ডনের ভোটাররা রায় দিয়েছিলেন ইইউতে থাকার পক্ষেই। ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় দেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলশের ভোটাররা।
৩৮২টি আসনের মধ্যে ইইউ থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে ভোট পড়েছিল ৫২% আর ৪৮% ভোট পড়ে জোটে থাকার পক্ষে ।