পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারির মামলায় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্য ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন নেওয়াজ শরিফ। আদালতের রায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, রায়ে ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেওয়াজ ক্ষমতা ছেড়েছেন।
এদিকে, দেশটিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে দুইবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি নেওয়াজ শরিফ।
গত বছর পানামাভিত্তিক আইনি সেবা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার প্রকাশিত ১ কোটি ১৫ লাখ নথিতে বিশ্বের শত শত ক্ষমতাধর রাজনীতিক, ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। এসব নথিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফসহ তার তিন সন্তানেরও নাম আসে। তবে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন তারা।
নেওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত যৌথ তদন্ত দল-জেআইটির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করে রায় দেয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টার কিছু সময় পর ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
রায়ে বলা হয়, ছয় সপ্তাহের মধ্যে নেওয়াজ ও তার সহ-অভিযুক্তদের দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ জবাবদিহি আদালতে পাঠানো হবে ও তাদের বিচার শুরু হবে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে রায় দেয়া হবে।
সর্বোচ্চ আদালত আরো বলেছে, নেওয়াজ পার্লামেন্ট ও আদালতের প্রতি অসৎ এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার যোগ্য নন।
রায়ের কিছুক্ষণ পরই পদত্যাগ করেন নেওয়াজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, রায়ে ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নেওয়াজ।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নেওয়াজ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বিচার ব্যবস্থা ও আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে দুইবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি নেওয়াজ শরিফ। অতীতে পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদের নির্ধারিত সময় পূর্ণ করতে পারেননি।