টহলের সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনা থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ -বিজিবি সদস্যদের ওপর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা গুলি চালিয়েছে –জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্টে এ ঘটনায় এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরেকজনকে।
তিনি বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ধরনের ভুল যাতে না হয় সে বিষয়ে দুই দেশ আরও সতর্ক হবে।
দুপুরে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাফ নদীতে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গুলি চালায়।
ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সিপাহী বিপ্লবকে (২১) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আর বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মিয়ানমার সীমান্তে একটি ক্যাম্পে রেখেছে বিজিপি বলে জানান মন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাফ নদীর মাঝ বরাবর ভাগ করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা টহল দেয়। বিজিবির একটি জলযান টহল দেয়ার সময় মাছ ধরার জালে বাধাগ্রস্ত হলে ‘সমস্যার সৃষ্টি’ হয়।
তবে টেকনাফ বিজিবি ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছে, তার সঙ্গে মন্ত্রীর এ বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।
বিজিবি টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিজিবির একটি দল ভোরে নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্টে টহল দিচ্ছিল। একটি মাছ ধরার ট্রলার থামিয়ে তল্লাশি করছিলেন তারা।
এ সময় পূর্ব দিক থেকে আরেকটি ট্রলারে করে মিয়ানমারের বিজিপি বাহিনীর সদস্যরা এসে বিজিবির নৌকায় গুলি চালায়। ওরা গুলি করার পর বিজিবি সদস্যরাও গুলি ছুড়ে জবাব দেয়। মানবপাচারকারী বা চোরাচালানী মনে করে বিজিপি গুলি করায় ভুল বোঝাবুঝিতে অনাকাঙ্ক্ষিত এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।