বর্তমান সরকার দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণে বহু সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. মনিরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক শান্তি সূচক-২০১৫ তে এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। বিশ্বের ১৬২টি দেশের বিভিন্ন প্রকার ২৩টি সূচক বিবেচনা করে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়। গত বছর বাংলাদেশ এই তালিকার ৯৮ ক্রমিকে ছিল। এ বছর আমাদের অবস্থান ৮৪তে উন্নীত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। টাকার অংকে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হার ৬.৫%। অর্থবছর ২০১০ থেকে অর্থবছর ২০১৫ পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬.১৯%। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বর্তমান সরকারের সমন্বিত প্রয়াসের ফলে অর্থবছর ২০০৯-১০ থেকে অর্থবছর ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে ২০ লাখ ৪১ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থান নিয়ে বিদেশে গমন করতে পেরেছে এবং দেশে ও বিদেশে মিলে মোট ১ কোটি ৮ হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে রফতানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ২৮%। এছাড়া দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে বর্তমানে ৭০ বছরে উন্নীত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ ১২.৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে শ্রমিক দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের একটি অন্যতম নতুন উদ্যোগ হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা দিয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়। সর্বমোট দশটি জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় ৫৬ হাজারের অধিক তরুণের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশের কর্মসংস্থান হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৬ বছরের দারিদ্র্যের হার ৩১.৫% থেকে ২০১৫ সালে ২৩.৬% নেমে এসেছে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১৭.৬% থেকে ১২.৩% হয়েছে। প্রাথমিক স্কুলের প্রায় ১০০% ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। ২০ হাজার ৫০০ মাধ্যমিক এবং এক হাজার ৫০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টি মিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫ বছরে স্বাস্থ্য খাতের নির্দেশকগুলোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে মোট প্রজনন হার ২.১১ এ নেমে এসেছে। একই সময়ে শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ৩২ জন এবং পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে ৪১ জন নেমে এসেছে। এছাড়াও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১৭০ জনে নেমে এসেছে। অধিকাংশ সামাজিক উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, বিশেষত: ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় হবে প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলার। ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। রূপকল্প-২০২১ এর বাস্তব রূপান্তরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বে অগ্রগামী ও উন্নত জনপদে পরিণত করতে জাতিকে শিগগিরই রূপকল্প-২০৪১ উপহার দেয়া হবে।