নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতে শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা দুঃখজনক—এ মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা তিনি।
ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জনসমক্ষে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিক্ষক যদি অন্যায় করে থাকে তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম নীতি আছে সেঅনুসারে কেউ অভিযোগ করতে পারেন, আইনি বা প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে পারেন, এধরনের শিক্ষক নির্যাতনের বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়— খুবই দুঃখজনক পুরো বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
বরিশালের শিক্ষা বোর্ডের ভুলে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা সম্পর্কে নাহিদ বলেন, এ বিষয়ে এরইমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি এ সময় আরো বলেন, প্রেমের কারণে কমার্স কলেজের ১১ শিক্ষার্থীর বহিষ্কার সম্পর্কে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।
ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে হেনস্থা করার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনরোষ থেকে বাঁচাতেই শিক্ষককে হেনস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তবে ধর্মীয় অবমাননার বিষয়টি স্কুলের শিক্ষকদের কেউই আগে থেকে জানতেন না বলে জানিয়েছেন তারা। আর বহিরাগতরা মাইকে এই ঘোষণা দেয় বলে দাবি করেছেন মসজিদের ইমাম।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে শুক্রবার সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠবোস করিয়ে এভাবেই লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় দেখা করেছে নারায়ণগঞ্জের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার শাহবাগে সমাবেশের ডাক দিয়েছে লেখক-শিল্পী-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক নেতারা।
ও্ইদিন ছিল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নিয়মিত সভা। সভায় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতকে ক্লাসে মারধর করার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবদ করা হয়। এরমধ্যেই স্কুলের সামনের একটি মসজিদে ঘোষণা করা হয় প্রধান শিক্ষক ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছে। এলাকাবাসীকে স্কুলমাঠে জড়ো হওয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়। পরে এলাকাবাসী স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করে এবং অবরুদ্ধ করে।
একপর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ডাকা হয়। পরে তার উপস্থিতিতে শিক্ষককে সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস করানো হয়। সেখান থেকে প্রধান শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সেলিম ওসমান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি— তবে ফোনে তিনি বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচাতেই শিক্ষককে শাস্তি দেয়া হয়।
নির্যাতিত শিক্ষকের অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের জের ধরেই তার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা এবং হেনস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, ধর্মীয় অবমাননার ব্যাপারটি শিক্ষকরা মসজিদের মাইকে শুনেছেন— আগে থেকে কেউ ব্যাপারটি জানতেন না আর মসজিদের ইমামের দাবি, বাইরের কয়েকজন লোক মসজিদের মাইকে এ ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।