জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন জাসদের কেন্দ্রীয় নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাসানুল হক ইনুকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জাসদ নেতারা এ কথা বলেন।
সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যায় বিএনপি-জামাত নেতৃত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে দেশকে অস্থিতিশীল করতেই জাসদ সভাপতিকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শক্তি যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ আমরা যখন সমাপ্ত করছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাননীয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে উন্নয়নের অব্যাহত ধারা রাখার জন্যে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী যখন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তখন এ ধরনের কাদা-ছোড়াছুড়ি আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করবে, মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে দুর্বল করবে।’
এ ধরনের মন্তব্য ১৪ দলের ঐক্য ভাঙ্গার আশংকাও করে জাসদ নেতারা বির্তকিত বক্তব্য থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধও করেন।
জাসদের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আপনার এ মন্ত্রীকে থামান—এ সংকটে তিনি যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, যে অনৈক্যের সৃষ্টি করছেন, অবিলম্বে তার (সৈয়দ আশরাফ) মুখ বন্ধ করুন। আর সৈয়দ আশরাফকে বলব, আপনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দিকে মনোযোগ দিন। আপনি কিভাবে মন্ত্রিত্ব চালান আমরা জানি, দেশবাসীও জানে।’
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি'তে সোমবার ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা ও কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) আওয়ামী লীগের শরিক দল— তবে মুক্তিযুদ্ধের পর হঠকারিতা করে বাংলাদেশকে অকার্যকর করতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে হঠকারিতা করে বাংলাদেশকে অকার্যকর করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। যার ফল বঙ্গবন্ধু হত্যা।