জনকল্যাণেই তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারি দলের নেতারা একে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া। দলীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার লংমার্চ উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লিফলেট বিতরণের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
দলীয় স্বার্থে নয় জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই তাদের এ লংমার্চ কর্মসূচি বলে জানান রফিকুল ইসলাম মিয়া।
তিনি বলেন, ‘এ আন্দোলন তো সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের আন্দোলন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সেই ক্ষেত্রে সরকারের মন্ত্রীরা কোথায় সন্ত্রাস করা হবে এ ধমক কেনো দিচ্ছেন? এটা গণতান্ত্রিক কী ধরনের অনুশীলন?’
এছাড়া, ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা হুঁশিয়ার করে বলেন, লংমার্চে বাঁধা দেয়া হলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। মিথ্যা মামলা, গুম-খুন বন্ধ না হলে অচিরেই সরকারের মর্মান্তিক পতন ঘটবে। মঙ্গলবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে থেকে লংমার্চ শুরু করবে বিএনপি।
এদিকে, রাজধানীতে যুবদল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে কটুক্তির বিরুদ্ধে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস দাবি করেন, পুরো দেশটাই এখন কারাগারে পরিণত হয়েছে। সেইসঙ্গে লংমার্চে বাঁধা দেয়া হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্বাস বলেন, ‘এ যাত্রা হবে শান্তিপূর্ণ, এখানে কেউ কোনো বাঁধা দিলে এটার জবাব দেয়া হাবে এ কথা মনে রাখবেন আপনারা। পানি শুধু বিএনপিই খায় নাকি? পানি আওয়ামী লীগ ও খায়। সুতরাং আমি আশা করি আওয়ামী লীগ এ যাত্রায় সহায়তা করবে।’
এছাড়া, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবারের লংমার্চের বিস্তারিত সূচি তুলে ধরেন।
রিজভী বলেন, ‘যারা বন্দুক দিয়ে অত্যাচার করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে যারা হরণ করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন, তাদের পরিণতি হয়েছে ভয়ঙ্কর ও মর্মান্তিক। তারা নিজেরাই সেই পরিণতির দিকে নিজেদেরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’
সরকার অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদের আটকের মধ্য দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।