নারায়ণগঞ্জে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জনসভা করতে অনুমতি না দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির এ নেতা বলেন, দলের চেয়ারপারসন নারায়ণগঞ্জে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা ও তাদের পরিবারকে সহানুভূতি জানাতে যেতে চেয়েছিলেন। তাকে বাধা দেয়া হলো। তাকে বাধা দেয়া গণতন্ত্রকে বাধা দেয়ার শামিল। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
এসময় নারায়ণঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় সারাদেশ মর্মাহত—এ কথা উল্লেখ তিনি বলেন, সরকার দেশে গুম, খুন, অপহরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে আর এখন সেই মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার পাঁয়তারা চলাচ্ছে—এ কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার বকসিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তরের বিষয়ে ফখরুল আরো বলেন, ‘এটা অত্যন্ত উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। আমরা মনে করি, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এটা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দায়রা জজ আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চালানোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই দুর্নীতি মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট অর্থ আত্মসাৎ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলবে ঢাকার বকসিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে। বুধবার আইনমন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরকার অনৈতিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে বলেই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার দায় পুরোপুরি সরকারের।
সভা-সমাবেশ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এ ফ্যাসিবাদী সরকার সমাবেশ করতে না দিয়ে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে। সরকার নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই বিএনপিকে পঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে উঠে-পড়ে লেগেছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বিএনপিকে ১৪ মে জনসভা করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অনুমতি দেবেন বলেও এ সময় ফখরুল আশা করেন।
নারায়ণগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ জেলাটিতে গেছেন বলেও বিএনপির এ নেতা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও সরকারের ওপর মহলের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে দেয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন।
সাত খুনের ঘটনায় আলোচিত নারায়ণগঞ্জে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভার প্রস্তুতি বিএনপি নিলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন সিটি মেয়র।
আগামী ১৪ মে জনসভার দিন ঠিক করে অনুমতির জন্য বুধবার দুপুরে সিটিকরোপোরেশনে আবেদন করে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার।
গতকাল রাতে মেয়র আইভী সাংবাদিকদের বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং তারা যে স্থানে অনুমতি চাইছে, সেই রাস্তার পাশে হাসপাতাল থাকায় বিএনপিকে অনুমতি দেয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে সমাবেশ করতে চেয়ে সিটি করপোরেশনের কাছে অনুমতি চেয়েছে বিএনপি।