আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না—নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায় এ সরকার বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার জয়পুরহাটে আরবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি তাই এ সরকার অবৈধ সরকার বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দুই ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছিল। এতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করায় পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। তাই এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।
কিছু দিন আগে রাজধানীর মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে মানুষকে, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, এ সরকারের আমলে এ আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসীদের গডফাদার বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের ঘটনা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, র্যাব গঠন করা হয়েছিল দেশের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি দমনের জন্য। তবে সেই বাহিনীকে আওয়ামী লীগ রক্ষীবাহিনীতে পরিণত করেছে, এ বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিএনপির বহু নেতাকর্মীদের গুম খুন করে যাচ্ছে তারা।
তাই এ সংগঠন পরিবর্তন করে নতুনভাবে আরেকটি সংগঠন তৈরি করতে হবে। র্যাব বিলুপ্তির আবারও আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
বিচার বিভাগ সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তাদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের জন্য এক বিচার আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য আরেক ধরনের বিচার, একদেশে দুই বিচার চলতে পারে না। এ সরকারের নেতাকর্মীরা গুম খুন করে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে আর বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাই দেশের জনগণকে বলতে চাই, এ জালিম সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
এ সরকারে পাশে দেশের জনগণ নেই তাই তারা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ঐকবদ্ধভাবে এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঈদের পর কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, এ আওয়ামী সরকার দুর্নীতিবাজ সরকার। এ সরকার পদ্মা সেতুর টাকা চুরি করেছে, কুইকরেন্টালের টাকা চুরি করেছে –চুরির এ সব টাকা পাচার করে বিদেশি ব্যাংককে রেখেছে। জনগণের অর্থ আত্মসাত করছে, জনগণের কোনো উন্নয়নে কোনো কাজ তারা করছে না।
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা হাজির হন জনসভাস্থলে। দুই দিনের এ সফরে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতদের স্বজন ও আহতদের সমবেদনাও জানান খালেদা জিয়া।
এর আগে দুপুরে জনসভায় অংশ নিতে বগুড়া থেকে জয়পুরহাট পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বগুড়ায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, এ সরকারের কবল থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চায়, এজন্য প্রয়োজন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া—দেশের সর্বস্তরের জনগণকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দুপুরে বগুড়া থেকে জয়পুরহাট যাওয়ার সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, দলের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কোনো প্রকার বিভেদ-বিভ্রান্তি নিজেদের মধ্যে থাকা যাবে না, সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষসহ সকল রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছেন। এদের দুনীর্তি, অত্যাচার, পাপাচারে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সুনাম আজকে নষ্ট করে ফেলেছে। দেশে কোনো উন্নয়ন নেই, গ্রামে-গঞ্জে সারাদেশে হাহাকার।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। তাই এ সরকারের হাত থেকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তি পেতে চায়, জীবন রক্ষা করতে চায়। প্রতিনিয়ত এরা গুম করছে আর হত্যা করছে। এদের লক্ষ্যই হলো দেশকে মেধাশূন্য করা। যুবকদের আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়া। তার জন্য এরা পরিকল্পিতভাবে এ কাজগুলো করে যাচ্ছে—এ সরকার লুটেরাদের সুযোগ করে দিচ্ছে লুটপাট করার জন্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বগুড়াবাসী সবসময় সত্য-ন্যায়ের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন আর অন্যায়ের বিরোধীতা করেছেন। তারা সব সময় বিএনপিকে সহযোগিতা করেছে। বগুড়ার যে উন্নয়ন তা বিএনপি করেছে। এ সরকার বগুড়াকে উন্নয়ন থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করেছে। এ -জালিম অত্যাচারী খুনি সরকার বিদায় নিয়ে আবার দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বগুড়ার বাকি উন্নয়ন করা হবে।