রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানের নামে কুৎসা রটনা এবং ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে, অপর এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন‑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান কখনোই বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন না।
রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি নেতা প্রকৌশলী এলকে সিদ্দিকির স্মরণ সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউর রহমান জড়িত- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল খন্দকার মোস্তাকের নাম উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানে নামে কেউ কিছু প্রমাণ করতে পারে নাই, শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানকে তারা (আওয়ামী লীগ) দেখতে পারে না তাই এ কথাগুলো বলেছেন। আওয়ামী লীগের খন্দকার মোসতাক আহমেদ শেখ মুজিবর রহমানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, এটাই প্রমাণিত সত্য। আপনাদের লোকেরাই ছিল ওখানে। এ সমস্ত কথা বলে আপনারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চান।’
ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না বলেও সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন বিএনপির এ নেতা।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান নিহত হন এবং জিয়াউর রহমান যেদিন নিহত হন সেদিন শেখ হাসিনা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এতে প্রমাণিত জিয়াউর রহমান হত্যায় শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকে জড়িত।
পুলিশি বাধার পরও নেতাকর্মীরা গতকাল শনিবার সারাদেশে দলের কর্মসূচি ‘কালো পতাকা মিছিল’ পালন করায় ধন্যবাদ জানিয়ে
তাদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পাশাপাশি পুলিশ ও সরকারের 'বাধা' উপেক্ষা করে কালো পতাকা মিছিল সফল করায় সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও জানান রিজভী।
এছাড়া জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে আগামী ১৯ আগস্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।