মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাত নেতা রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু দণ্ডাদেশের রায়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ও রোববার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে জামাত।
বুধবার সাঈদীর রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে দলটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
একই সঙ্গে শুক্রবার সাঈদীর জন্য দোয়া এবং পরদিন শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করবে তারা।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
ঘোষিত কর্মসূচি ‘গণতান্ত্রিক‘ও ‘নিয়মতান্ত্রিক’ পন্থায় এবং ‘শান্তিপূর্ণ’উপায়ে পালন করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বন জানানো হয়।
বিবৃতিতে জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল আপিল বিভাগের রায়ের ব্যাপারে দলীয় প্রতিক্রিয়া জানান।
দেলু শিকদার নামের কুখ্যাত রাজাকারের অপকর্মের দায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর চাপানো হয়েছে বলে দল থেকে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয় রায়ের ওপর রিভিউ আবেদন করা হলে সাঈদী সেখানে ন্যায়বিচার পাবেন।
বিবৃতিতে জামাতের দুই নেতা দাবি করেন, ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সাঈদী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, কাল্পনিক ও বায়বীয়’অভিযোগে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’মামলা দায়ের করে। সরকার এ মামলায় তাকে ফাঁসানোর জন্য বেলজিয়াম থেকে পাঠানো জনৈক জিয়াউদ্দীনের পাঠানো চার্জ ফ্রেমিং অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে চার্জ গঠন করে। ১৬ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির না করে তাদের জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। স্কাইপ কেলেঙ্কারির পর সংশ্লিষ্ট বিচারক পদত্যাগ করলেও তার রেকর্ড করা জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনালে রায় প্রদান করা হয়। ১৯৭২ সালে ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলা ও চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি আদালতে জমা দেয়ার পরেও তা আমলে নেয়া হয়নি বিবৃতিতে জানানো হয়।