কোনো দল কিংবা গোষ্ঠী নয় সরকারের বিভিন্ন অন্যায়-অপকর্মে ভুক্তভোগী পেশাজীবী ও জনগণের চাপেই বিএনপি হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানান দলের নেতারা। রোববার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন নেতারা।
দলটির নেতারা বলেন, এতো তাড়াতাড়ি হরতালের চিন্তা না থাকলেও সরকারই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে তাদের বাধ্য করেছে। দেশকে বাকশালের হাত থেকে বাঁচাতে এ হরতালের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে নিজেদের মূল দাবি আদায়ের পথে অগ্রসর হওয়াকেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমীচীন বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।
গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতারা বলেছিলেন সরকারকে সর্বোচ্চ ৬ মাস সময় দেবেন তারা। তারপর বিভিন্ন সময়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও তা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশেই ছিল সীমাবদ্ধ।
কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের সঙ্গে জামাতের গোপন আঁতাত এবং ২০ দলীয় জোট ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে শনিবার জোট নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর প্রতিবাদে হঠাৎ করেই সোমবার হরতালের ডাক দেয় বিএনপি।
কোনো বিশেষ দলের চাপে বিএনপি হরতাল দিয়েছে কিনা—? এ প্রশ্নে তা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বিএনপি নেতারা বলেন, কারো দ্বারা চালিত হয়ে নয় জনগণ ও পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষায় তারা এ কঠোর কর্মসূচির দিকে গেছেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল মিয়া বলেন, ‘সত্য বলতে কি কারা এখানে চাপ দেয়ার মতো আছে—সম্মিলিত কথা হতে পারে আলোচনার মাধ্যমে হয়েছে। হঠাৎ করে সরকারের মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে, হঠাৎ করে পরিবর্তন করেছে তার কারণ নিরঙ্ককুশ কন্ট্রোল অল দ্যা আওয়ার কনসেপ্ট স্টেট। দলীয় বিচারপতিদের ধাক্কায় ঊচ্চ আদালত প্রকম্পমান। আর এটা করে ঊচ্চ আদালত মারাত্বক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত করেছে।’
বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, হরতাল বা আন্দোলনের ব্যাপারে পেশাজীবী সংগঠনগুলো, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের অংশ তারা কিন্তু অভিশংসন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কথা বলেই আসছিল। আন্দোলন করার চাপ কিন্তু আছে।
এই ধরনের জনস্বার্থ সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলে সরকারকে চাপে ফেলে বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে পারবে বলে মনে করেন নেতারা।
নোমান বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আন্দোলনের ধারা প্রাথমিক স্তর কিনা বিচারপতিদের অপসারণ ও জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে এ হরতাল আমরা আহ্বান করেছি।’
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ ক্ষমতায় থাকতে চায়। সবদিক বন্ধ করতে, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সব দিক বন্ধ দিয়েকেউ পার পায়নি ইতিহাসে।’